ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ

ঐক্যের সমস্যা ও প্রস্তাবনা

বাংলাদেশ পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র হ’লেও এখানকার জনগণের মধ্যে প্রধানতঃ চারটি দর্শনের সংঘাত রয়েছে, যা ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে। অর্থাৎ (১) ধর্মীয় ও বৈষয়িক উভয় জীবনে ধর্মহীন। (২) ধর্মীয় জীবনে স্বাধীন। বৈষয়িক জীবনে ধর্মহীন। (৩) উভয় জীবনে মাযহাবী শাসন চান। (৪) উভয় জীবনে কুরআন ও সুন্নাহর নিরপেক্ষ শাসন চান। এগুলিই আবার অসংখ্য রাজনৈতিক ও ধর্মীয় দল-উপদলের জন্ম দিয়েছে। যাদের পরস্পরের মধ্যে দলীয় অহমিকা ও রেষারেষি এত বেশী যে, কোন একটি মৌলিক ইস্যুতেও তাদেরকে এক হয়ে কাজ করতে দেখা যায় না। ফলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় উন্নয়নের মৌলিক প্রশ্নে যেমন ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলি একক দৃষ্টিভঙ্গিতে আসতে পারেনি, ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার মৌলিক প্রশ্নেও তেমনি ইসলামী দলগুলি একক দৃষ্টিভঙ্গিতে আসতে পারেনি।

এখানে জাতীয় ঐক্যের জন্য মৌলিকভাবে দু’টি পথ আমাদের জন্য খোলা রয়েছে। ১- দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় উন্নয়ন। ২- ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠা। দু’টিই ঈমানী প্রশ্ন এবং জনমত যাচাই করলে নিঃসন্দেহে উপরোক্ত দু’টি প্রশ্নে এদেশের অধিকাংশ জনগণের রায় পাওয়া যাবে। অতএব দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণকারী ভিতর ও বাইরের যেকোন চাপ ও বহিঃশক্তির বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। একইভাবে জাতীয় উন্নয়ন বিঘ্নিত হ’তে পারে, এরূপ যাবতীয় কর্মসূচীর বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যমতে পৌঁছতে হবে। স্বাধীনতার পক্ষের ও বিপক্ষের শক্তি বলে দেশের জনগণকে বিভক্ত করা যাবে না। সাথে সাথে হরতাল-অবরোধ, গাড়ী ভাংচুর, বোমাবাজি, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন ব্যাহতকারী যাবতীয় কর্মকান্ড নিষিদ্ধ করে আইন প্রণয়ন করতে হবে ও তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

দ্বিতীয়তঃ ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠা। আমরা মনে করি, ইসলামী আইন প্রতিষ্ঠার মৌলিক প্রশ্নে ইসলামী দলগুলির পক্ষ হ’তে একটি ‘বিশেষজ্ঞ কমিটি’ থাকবে। যারা ইসলামী আইনের রূপরেখা কি হবে এবং বিভিন্ন মৌলিক ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা কিভাবে রাখা যাবে, সে বিষয়ে তারা নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে কর্মপন্থা নির্ধারণ করবেন। একই সাথে তাদের একটি ‘লিয়াজোঁ কমিটি’ থাকবে, যারা সর্বদা ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলির নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ রাখবেন ও তাদেরকে ইসলামী আইনের কল্যাণকারিতা বিশদভাবে বুঝাতে চেষ্টা করবেন। এর ফলে সকল দলের মধ্যে ঐক্যের পরিবেশ সৃষ্টি হবে। নিদেনপক্ষে পারস্পরিক রাজনৈতিক সহনশীলতা বজায় থাকবে। যা জাতীয় উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে ইনশাআল্লাহ।