বিদ‘আত হ’তে সাবধান

শবেবরাত

(حكم الاحتفال بليلة النصف من شعبان)

আল্লাহ রববুল আলামীন সূরায়ে মায়েদায় এরশাদ করেছেন যে, ‘আজ আমি তোমাদের জন্য দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম এবং আমার নে‘মতকে সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে একমাত্র জীবন বিধান হিসাবে মনোনীত করলাম’ (মায়েদা ৫/৩)। সূরা শূরায় তিনি বলেন, ‘তাদের জন্য কি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন শরীক রয়েছে, যারা তাদের জন্য আল্লাহর নির্দেশ ব্যতিরেকেই দ্বীনের মধ্যে বিভিন্ন বিধান সমূহ প্রবর্তন করেছে’ (শূরা ৪২/২১)। বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত হাদীছে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন যে, ‘দ্বীনের মধ্যেকার যাবতীয় নবোদ্ভূত বস্ত্তই প্রত্যাখ্যাত’।[1] ছহীহ মুসলিমে জাবের (রাঃ) প্রমুখাৎ বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) জুম‘আর খুৎবায় বলতেন, ‘সবচাইতে নিকৃষ্ট কর্ম হচ্ছে শরী‘আতের মধ্যে নতুন নতুন বস্ত্তর উদ্ভব ঘটানো। কেননা (ধর্মের নামে) প্রতিটি নবোদ্ভূত বস্ত্তই হ’ল ভ্রষ্টতা’।[2]

এমনিতরো অন্যান্য আয়াত ও হাদীছ দ্বারা একথা দ্ব্যর্থহীনভাবে প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ তা‘আলা উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য তাঁর দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন এবং এই নে‘মতকে সম্পূর্ণ করে দিয়েছেন। তিনি তাঁর রাসূলকে উঠিয়ে নেননি যতক্ষণ পর্যন্ত না তিনি কুরআনকে মানুষের নিকট পুরাপুরিভাবে পৌঁছিয়ে দিয়েছেন এবং স্বীয় কথা ও কর্ম দ্বারা শরী‘আতের প্রতিটি হুকুম-আহকাম উম্মতের জন্য বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করে গেছেন।

অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) স্পষ্ট ভাষায় এরশাদ করেছেন যে, যে সকল কথা ও ধর্মানুষ্ঠান তাঁর পরবর্তীকালে লোকেরা নতুনভাবে আবিষ্কার করবে এবং ঐ সমস্ত কপোলকল্পিত অনুষ্ঠান সমূহকে শরী‘আতের সাথে সম্পর্কিত করবে, তার সমস্তই বিদ‘আত এবং তার যাবতীয় গুনাহ ঐ বিদ‘আতের আবিষ্কারকারীদের উপর বর্তাবে- তাদের উদ্দেশ্য হাযারো ভাল হেŠক না কেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর উপরোক্ত আদেশের প্রকৃত তাৎপর্য ছাহাবায়ে কেরাম ও প্রাথমিক যুগের হকপন্থী আলেমগণ যথাযথভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। ফলে তাঁরা যেকোন রকমের বিদ‘আতকে ইনকার করেছেন এবং তা হ’তে সাবধান করেছেন। ফলে বহু আলেম সুন্নাতের মাহাত্ম্য ও বিদ‘আতের অসারতা প্রমাণ করে বিভিন্ন গ্রন্থাবলীও লিপিবদ্ধ করেছেন। যেমন ইবনু ওয়ায্যাহ, তুরতূশী, আবু শামাহ প্রমুখ বিদ্বানগণ।

বর্তমানে প্রচলিত বিদ‘আত সমূহের মধ্যে একটি হ’ল শা‘বান মাসের মধ্যভাগে ‘শবেবরাত’ উদযাপন এবং ঐদিন ছিয়াম পালন করা, যা কিছুসংখ্যক লোক ধর্মের নামে নতুনভাবে চালু করেছে। অথচ শরী‘আতে এর সপক্ষে নির্ভরযোগ্য কোন দলীল নেই। কেননা শবেবরাতের ফযীলত বর্ণনায় যে সকল যঈফ হাদীছ পেশ করা হয়ে থাকে, তার কোনটির উপরেই নির্ভর করা চলে না। অতঃপর ঐ রাতের বিশেষ ছালাতের বিশেষ বিশেষ ফযীলত সম্পর্কে যা কিছু বলা হয়ে থাকে তা একেবারেই বানোয়াট। বহু বিদগ্ধ মনীষী এ সম্পর্কে হুঁশিয়ার করেছেন যাঁদের কিছু উক্তি পরে আসবে ইনশাআল্লাহ।

সিরিয়ার (শামের)  ও অন্যান্য স্থানের কতিপয় পূর্ববর্তী বিদ্বান থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং অধিকাংশ (জমহূর) ওলামায়ে কেরাম যার উপরে ঐক্যমত পোষণ করেছেন, তা এই যে, শবেবরাত উদযাপন একটি বিদ‘আতী প্রথা এবং এর ফযীলত বিষয়ে বর্ণিত সমস্ত হাদীছই যঈফ ও কিছু কিছু নিজেদের তৈরী জাল হাদীছ। এ বিষয়ে সাবধান করে মনীষী হাফেয ইবনু রজব (রহঃ) স্বীয় ‘লাত্বায়েফুল মা‘আরিফ’ (لطائف المعارف ) ও অন্যান্য কিতাবে কঠোর হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন। যঈফ হাদীছের উপরে অনেক সময় ঐ সকল ইবাদতের ব্যাপারে আমল করা যেতে পারে, যার মূল ভিত্তি ছহীহ দলীল সমূহ দ্বারা প্রমাণিত। অথচ শবেবরাত অনুষ্ঠানের কোনরূপ সঠিক ভিত্তিই নেই, যে তার জন্য যঈফ হাদীছের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া যেতে পারে।

হাদীছ গ্রহণের উপরোক্ত মূলনীতি বর্ণনা করেছেন মহামতি ইমাম শায়খুল ইসলাম আবুল আববাস আহমাদ ইবনে তায়মিয়াহ (রহঃ)। অতঃপর হে পাঠক! আমি আপনার জন্য শবেবরাতের এই মাসআলা সম্পর্কে কয়েকজন মনীষীর মতামত উদ্ধৃত করব যা এ বিষয়ে একটি দলীল হিসাবে প্রতিপন্ন হবে।

সকল বিদ্বান এ বিষয়ে একমত যে, যেকোন মাসআলার জন্য আল্লাহর কিতাব ও রাসূলের সুন্নাতের দিকে মনোনিবেশ করতে হবে। অতঃপর কুরআন ও সুন্নাহ অথবা তার যেকোন একটি আমাদেরকে যে হুকুম করবে, তা অবশ্য পালনীয় রূপে গণ্য হবে। পক্ষান্তরে কুরআন ও সুন্নাহ যে সকল বস্ত্তর বিরোধিতা করবে তা অবশ্যই বর্জন করতে হবে। আর যে সকল ধর্মানুষ্ঠান কুরআন ও সুন্নাহতে স্থান পায়নি, তা সবই বিদ‘আত হবে এবং তা পালন করা কখনোই জায়েয হবে না- তার প্রতি মানুষকে আহবান করা ও তাকে স্বাগত জানানো তো দূরের কথা।

যেমন সূরা নিসায় আল্লাহ রববুল আলামীন বলেন, يَاأَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا أَطِيْعُوْا اللهَ وَأَطِيْعُوْا الرَّسُوْلَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِيْ شَيْءٍ فَرُدُّوْهُ إِلَى اللهِ وَالرَّسُوْلِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُوْنَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَّأَحْسَنُ تَأْوِيْلاً- ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহর এবং আনুগত্য কর আমার রাসূলের ও তোমাদের নেতৃবৃন্দের। যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদ কর, তাহ’লে বিষয়টিকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও। যদি তোমরা সত্যিকারভাবে আল্লাহ ও আখেরাতের উপরে বিশ্বাসী হও। আর এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর ও পরিণতির দিক দিয়ে উত্তম’ (নিসা ৪/৫৯)। তিনি বলেন,  وَمَا اخْتَلَفْتُمْ فِيهِ مِنْ شَيْءٍ فَحُكْمُهُ إِلَى اللهِ... ‘আর তোমরা যে বিষয়েই মতভেদ কর না কেন, তার ফায়ছালা তো আল্লাহর কাছে’... (শূরা ৪২/১০)। সূরা আলে ইমরানে আল্লাহ বলেন, قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّوْنَ اللهَ فَاتَّبِعُوْنِيْ يُحْبِبْكُمُ اللهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوْبَكُمْ - ‘আপনি বলে দিন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবেসে থাক, তবে আমার অনুসরণ কর। তাহ’লে তিনি তোমাদের ভালবাসবেন এবং তোমাদের গোনাহ সমূহ মাফ করবেন’ (আলে ইমরান ৩/৩১)। সূরা নিসায় আরো কঠোর ভাষায় তিনি বলেন, فَلاَ وَرَبِّكَ لاَ يُؤْمِنُوْنَ حَتَّى يُحَكِّمُوْكَ فِيْمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لاَ يَجِدُوْا فِيْ أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوْا تَسْلِيْمًا- ‘(হে মুহাম্মাদ!) তোমার প্রভুর শপথ! তারা কখনোই মুমিন হ’তে পারবে না, যতক্ষণ না তাদের বিবাদীয় বিষয়সমূহে তোমাকে একমাত্র সমাধানকারী হিসাবে গ্রহণ করবে। অতঃপর তোমার দেয়া ফায়ছালা সম্পর্কে তাদের মনে কোনরূপ দ্বিধা-সংকোচ থাকবে না এবং তারা অবনতচিত্তে তা মেনে নিবে’(নিসা ৪/৬৫)

উপরোক্ত মর্মে আরও বহু আয়াত রয়েছে। যেগুলির প্রতিটিই এ বিষয়ে এক একটি স্পষ্ট দলীল যে, প্রত্যেক বিতর্কিত মাসআলার সমাধানের জন্য কিতাব ও সুন্নাতের দিকে ধাবিত হ’তে হবে এবং তার দেওয়া সমাধান অবশ্যই সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করতে হবে। কেননা এটাই হ’ল ঈমানের মূল দাবী এবং বান্দার জন্য দুনিয়া ও আখেরাতের মঙ্গল পরিণতির চাবিকাঠি।

হাফেয ইবনু রজব (রহঃ) তদীয় لطائف المعارف  কিতাবে উপরোক্ত দলীল সমূহ উদ্ধৃত করার পর বলেছেন, ‘সিরিয়ার (শামের) খালেদ ইবনে মা‘দান, মাকহূল, লোকমান বিন ‘আমের প্রমুখ তাবেঈগণ শবেবরাতকে বেশ সম্মানের চোখে দেখতেন এবং ঐ রাত্রিতে বেশী বেশী ইবাদত-বন্দেগী করতেন। তাদের দেখেই লোকেরা উক্ত রাত্রির অধিক ফযীলত ও সম্মান কল্পনা করে নিয়েছে। বলা হয়ে থাকে যে, এবিষয়ে তাদের নিকট ইস্রাঈলী বর্ণনাসমূহ পৌঁছেছিল। অতঃপর যখন এই প্রথা চারিদিকে বিস্তৃত হয়ে পড়ল, তখন কেউ তা গ্রহণ করল এবং ঐ রাত্রির সম্মানের ব্যাপারে একমত হ’ল। যেমন বছরাবাসীদের একদল আবেদ ও অন্যান্যরা। কিন্তু মক্কা-মদীনা তথা হেজাযের অধিকাংশ আলেম ওটাকে প্রত্যাখ্যান করেন। যেমন আত্বা, ইবনু আবী মুলায়কাহ প্রমুখ। আব্দুর রহমান বিন যায়েদ বিন আসলাম বর্ণনা করেছেন যে, ইমাম মালেক ও তাঁর সঙ্গীরা ছাড়াও মদীনার সকল ফক্বীহ এ ব্যাপারে একমত যে, আলোচ্য শবেবরাত বস্ত্তটি সর্বৈব বিদ‘আত।

সিরিয়ার আলেমগণ ঐ রাত্রি জাগরণের ধরন বিষয়ে দু’প্রকার মত পোষণ করেছেন। ১ম : ঐ রাত্রিতে জামা‘আতবদ্ধ হয়ে মসজিদে জাগরণ করা মুস্তাহাব। যেমন খালেদ বিন মা‘দান, লোকমান বিন ‘আমের প্রমুখ আলেমগণ ঐ রাত্রিতে উত্তম পোশাকে সজ্জিত হয়ে, আতর-সুরমা মেখে সারা রাত্রি মসজিদে ইবাদত করতেন। ইসহাক্ব বিন রাহওয়াইহ্ এ ব্যাপারে উক্ত মত পোষণ করেন। তিনি বলেন যে, ঐ রাত্রিতে মসজিদে সম্মিলিতভাবে রাত্রি জাগরণ করা বিদ‘আত নয়। হারব আল-কিরমানী তদীয় ‘মাসায়েল’-বইয়ে এই সকল বিষয় উল্লেখ করেছেন।

২য় মত হ’ল : ঐ রাত্রিতে দলবদ্ধভাবে মসজিদে ছালাত, দো‘আ ও গল্প-গুজবের জন্য গমন করা মাকরূহ। অবশ্য একাকী যদি কেউ মসজিদে গিয়ে ইবাদত করে, তবে মাকরূহ হবে না। এটি হ’ল সিরিয়াবাসীদের ইমাম, আলেম ও ফক্বীহ আওযাঈর মত। ইনশাআল্লাহ এটাই সত্যের অধিকতর নিকটবর্তী।

‘শবেবরাত’ সম্পর্কে ইমাম আহমাদের কোন মতামত জানা যায়নি। তবে উক্ত রাত্রিতে ইবাদত-বন্দেগী মুস্তাহাব হওয়া সম্পর্কে তাঁর দুই ঈদের রাত্রিতে ইবাদত করা সম্পর্কে প্রদত্ত দু’টি মতামত থেকে ‘তাখরীজ’ (মাসআলা বের করা) হয়ে থাকে। একটি হ’ল দুই ঈদের রাত্রিতে দলবদ্ধ হয়ে মসজিদে ইবাদত করা মুস্তাহাব নয়। যেহেতু রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও তাঁর ছাহাবীগণ কেউই তা করেননি। অন্যটি হ’ল তা করা মুস্তাহাব। যেহেতু আব্দুর রহমান বিন ইয়াযীদ ইবনুল আসওয়াদ নামক জনৈক তাবেঈ তা করেছেন। অনুরূপভাবে ১৫ই শা‘বানের রাত্রিতে ইবাদত-বন্দেগী সম্পর্কেও রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) কিংবা তাঁর ছাহাবীগণের কোনরূপ উক্তি বা আমল প্রমাণিত হয়নি। বরং সিরিয়ার কিছু সংখ্যক তাবেঈ ও তাদের সমর্থক কতিপয় ফক্বীহদের আমলই কেবল এ বিষয়ে পরিদৃষ্ট হয়’। হাফেয ইবনু রজবের আলোচনার সংক্ষেপ এখানেই শেষ হ’ল।

উপরোক্ত আলোচনা হ’তে স্পষ্ট প্রমাণিত হ’ল যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও তাঁর ছাহাবায়ে কেরামের তরফ হ’তে ‘শবেবরাত’ সম্পর্কে কোন কিছুই প্রমাণিত হয়নি। ইমাম আওযাঈ যে ঐ রাত্রিতে একাকী ইবাদত করা মুস্তাহাব বলেছেন এবং হাফেয ইবনু রজব যা সমর্থন করেছেন- তা নিতান্তই অপরিচিত ও দুর্বল। কেননা যে সকল বস্ত্ত শরী‘আতের স্পষ্ট দলীল দ্বারা প্রমাণিত নয়, আল্লাহর দ্বীনের মধ্যে তার প্রচলন ঘটানোর অনুমতি কোন মুসলমানের নেই। চাই সে একাকী করুক কিংবা দলবদ্ধ হয়ে করুক, চাই গোপনে করুক কিংবা প্রকাশ্যে করুক। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নির্দেশ এ বিষয়ে সকলের উপরেই সমানভাবে প্রযোজ্য। যেমন তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এমন কাজ করবে যা আমরা করিনি, তা প্রত্যাখ্যাত’।[3] এমনিতরো অন্যান্য যে সকল হাদীছে বিদ‘আতের অসারতা ও তা হ’তে বিরত থাকার ব্যাপারে হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করা হয়েছে।

ইমাম আবুবকর তুরতূশী (রহঃ) তদীয় الحوادث والبدع নামক কিতাবে লিখেছেন যে, ইবনু অয্যাহ যায়েদ ইবনে আসলাম প্রমুখাৎ বর্ণনা করেন যে, আমরা আমাদের কোন উস্তায ও ফক্বীহকে ১৫ই শা‘বানের প্রতি কোনরূপ গুরুত্ব দিতে দেখিনি। তাঁরা মাকহূলের বর্ণনার প্রতিও দৃকপাত করতেন না এবং অন্যান্য রাত্রির তুলনায় উক্ত রাত্রির কোন ফযীলত আছে বলে তাঁরা মনে করতেন না’। ইবনু আবী মুলায়কাহকে একদা বলা হ’ল যে, যিয়াদ নুমায়রী নামক জনৈক ব্যক্তি বলেন যে, শবেবরাতের ফযীলত শবেক্বদরের ন্যায়’। এর উত্তরে ইবনু আবী মুলায়কাহ বললেন, যদি আমি তা শুনতাম এবং তখন আমার হাতে লাঠি থাকত, তাহ’লে আমি তাকে অবশ্যই পিটাতাম’। উল্লেখ্য যে, যিয়াদ ছিল একজন গল্পকার।

আল্লামা শওকানী (রহঃ) الفوائد المجموعة নামক কিতাবে বলেন, শবেবরাতের নামে নিম্নোক্ত হাদীছটি ‘মওযূ’ (জাল)। যেমন (রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন), ‘হে আলী! যে ব্যক্তি মধ্য শা‘বানের রাত্রিতে ১০০ রাক‘আত ছালাত পড়বে এবং তার প্রত্যেক রাক‘আতে সূরায়ে ফাতিহা ও তৎসহ সূরায়ে ইখলাছ দশবার করে পড়বে, আল্লাহ তার সকল প্রয়োজন পূর্ণ করে দিবেন’। উক্ত হাদীছের শব্দগুলি- যাতে উক্ত ছালাত আদায়কারীর জন্য বিরাট ছওয়াবের কথা বলা হয়েছে, ঐ শব্দগুলিই এটির ‘মওযূ’ হওয়া সম্পর্কে কারু মনে কোনরূপ সন্দেহ বাকী রাখেনি। তাছাড়া তার সনদের সকল ব্যক্তিই মাজহূল বা অজ্ঞাত।

‘মুখতাছার’ নামক কিতাবে তিনি বলেন যে, ১৫ই শা‘বানের রাত্রিতে বিশেষ ছালাত আদায় করার হাদীছ ‘বাতিল’ এবং ইবনু মাজাহ-তে আলী (রাঃ) প্রমুখাৎ বর্ণিত হাদীছ যাতে বলা হয়েছে যে, إِذَا كَانَ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ فَقُوْمُوْا لَيْلَهَا وَصُوْمُوْا نَهَارَهَا ‘মধ্য শা‘বান আসলে তোমরা রাতে ইবাদত কর ও দিনে ছিয়াম পালন কর’- তা ‘যঈফ’।[4] اللآلي কিতাবে তিনি বলেন, দায়লামী ও অন্যরা যে মধ্য শা‘বানের প্রতি রাক‘আতে ১০ বার সূরা ইখলাছ সহ ১০০ রাক‘আত ছালাত ও তার পাহাড় প্রমাণ ছওয়াবের হাদীছ বর্ণনা করে থাকেন তা ‘মওযূ’। তিনটি সূত্রে বর্ণিত তার সকল রাবীর প্রত্যেকেই অজ্ঞাত ও দুর্বল। তিনি বলেন, এমনিভাবে প্রতি রাক‘আতে ৩০ বার সূরা ইখলাছ সহ ১২ রাক‘আত বা ১৪ রাক‘আত ছালাতের যে সকল হাদীছ বলা হয়ে থাকে তা সবই ‘মওযূ’ বা জাল।

(ইমাম শাওকানী বলেন) এই সমস্ত জাল হাদীছ দ্বারা একদল ফক্বীহ ধোঁকা  খেয়েছেন। যেমন এহইয়াউ উলূমিদ্দীন -এর লেখক ইমাম গাযযালী (রহঃ) ও অন্যান্য ফক্বীহগণ। এমনিভাবে একদল তাফসীরকারও প্রতারিত হয়েছেন। অতঃপর এই রাতের অর্থাৎ মধ্য শা‘বানের রাত্রির বিশেষ ছালাত সম্পর্কে বিভিন্ন সূত্রে যতগুলি বর্ণনা উদ্ধৃত হয়েছে- সবগুলিই বাতিল ও মওযূ। অবশ্য এর দ্বারা তিরমিযীর আয়েশা (রাঃ) প্রমুখাৎ বর্ণিত রেওয়ায়াত বাতিল হয় না। যেখানে বলা হয়েছে যে, ‘মধ্য শা‘বানের রাত্রিতে আল্লাহ নিম্ন আকাশে নেমে আসেন এবং বনু কলবের ছাগলের পশম সমতুল্য বান্দার অসংখ্য অপরাধ ক্ষমা করেন’। কেননা এখানে কথা হ’ল, এই রাতের বানোয়াট ছালাত সম্পর্কে। যদিও এই হাদীছের মধ্যে যথেষ্ট দুর্বলতা ও সনদের মধ্যে ছিন্নসূত্রিতা (انقطاع ) রয়েছে। এমনিভাবে পূর্ববর্ণিত আলী (রাঃ) প্রমুখাৎ হাদীছও বাতিল হয় না, যেখানে উক্ত দিবসে ছিয়াম ও রাত্রিতে ইবাদত করতে বলা হয়েছে, যদিও ওটাও যঈফ। আমরা ইতিপূর্বে তার আলোচনা করেছি। কেননা এখানে কথা হ’ল উক্ত রাত্রির জন্য আবিষ্কৃত ছালাত সম্পর্কে। উপরোক্ত হাদীছ দু’টির কোনটিতেই এই তথাকথিত ছালাত সম্পর্কে বলা হয়নি।

হাফেয ইরাক্বী বলেন, শবেবরাতের ছালাত সম্পর্কিত হাদীছ রাসূলুল্লাহ্ (ছাঃ)-এর বিরুদ্ধে তৈরী করা হয়েছে এবং এর দ্বারা তাঁর উপর মিথ্যারোপ করা হয়েছে। ইমাম নববী (রহঃ) স্বীয় المجموع কিতাবে বলেন, ‘ছালাতুর রাগায়েব’ নামে প্রসিদ্ধ যে ১২ রাক‘আত ছালাত রজব মাসের প্রথম জুম‘আর রাত্রিতে মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে পড়া হয়ে থাকে এবং মধ্য শা‘বানের রাত্রিতে যে ১০০ রাক‘আত ছালাত চালু করা হয়েছে- এই দুই ধরনের ছালাতই অতীব নিন্দনীয় বিদ‘আত (بدعتان منكرتان)। আবু তালেব মাক্কীর (মৃ ৩৮৬ হিঃ) ‘কূতুল কুলূব’ (قوت القلوب) ও ইমাম গাযালীর (৪৫০-৫০৫ হিঃ) ‘এহ্ইয়াউ উলূমিদ্দীন’ (إحياء علوم الدين) কিতাবে তার উল্লেখ দেখে এবং এ সম্পর্কে কয়েকটি হাদীছ দেখে কেউ যেন ধোঁকায় না পড়েন। এমনিভাবে কিছু সংখ্যক আলেম যাঁরা উক্ত বিষয়ে সন্দেহের ধূম্রজালে আচ্ছন্ন হয়েছেন এবং উক্ত ছালাতদ্বয়ের মুস্তাহাব হওয়া সম্পর্কে কিছু পৃষ্ঠা প্রণয়ন করেছেন, তাঁদের ঐসব দেখে কেউ যেন প্রতারিত না হন। কেননা তারা প্রত্যেকেই এ ব্যাপারে ভুল করেছেন (غالط فى ذلك) ’।

উপরোক্ত ছালাত দু’টির অসারতা সম্পর্কে ইমাম আবু মুহাম্মাদ আব্দুর রহমান বিন ইসমাঈল মাক্বদেসী একটি মূল্যবান কিতাব রচনা করেছেন। সেখানে তিনি সুন্দরভাবে ও সর্বোত্তম পদ্ধতিতে এর রদ করেছেন। এর বিরুদ্ধে এগুলি ছাড়াও আরও বহু মনীষীর উক্তি উদ্ধৃত করা যেত। কিন্তু তাতে আলোচনা দীর্ঘ হবে।

আশা করি ইতিপূর্বে আমরা যেসমস্ত প্রমাণ উপস্থাপন করেছি, তা-ই যেকোন সত্যসন্ধানীর জন্য যথেষ্ট হবে এবং যেসমস্ত আয়াত ও হাদীছ এবং বিদ্বানগণের উক্তি সমূহ উদ্ধৃত হয়েছে, তা যেকোন সত্যান্বেষী ব্যক্তিকে পরিষ্কারভাবে বলে দিবে যে, ১৫ই শা‘বানের রাত্রিতে বিশেষ ছালাত পড়া ও অন্যান্য আচার-অনুষ্ঠান করা এবং ঐ দিবসে খাছ করে ছিয়াম রাখা অধিকাংশ বিদ্বানের নিকট নিন্দনীয় বিদ‘আত (بدعة منكرة)। পূত-পবিত্র শরী‘আতে এর কোন ভিত্তি নেই। বরং তা ছাহাবীগণের পরবর্তী যুগের আবিষ্কৃত বিদ‘আত সমূহের অন্যতম।

প্রত্যেক সত্যসন্ধ পাঠকের জন্য আল্লাহ রববুল ‘আলামীনের সেই যুগান্তকারী ঘোষণাই যথেষ্ট, যা সূরা মায়েদায় এরশাদ হয়েছে যে, ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম’ (মায়েদাহ ৫/৩)। অতঃপর রাসূলে কারীমের দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা- ‘যে ব্যক্তি শরী‘আতের মধ্যে এমন কিছুর উদ্ভব ঘটায় যা তাতে ছিল না, তা প্রত্যাখ্যাত’[5] এবং উক্ত মর্মের অন্যান্য হাদীছ সমূহ।

ছহীহ মুসলিমের একটি হাদীছে আবু হুরায়রাহ (রাঃ) প্রমুখাৎ বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেছেন, لاَ تَخْتَصُّوْا لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ بِقِيَامٍ مِنْ بَيْنِ اللَّيَالِىْ وَلاَ تَخُصُّوْا يَوْمَ الْجُمُعَةِ بِصِيَامٍ مِنْ بَيْنِ الْأَيَّامِ إِلاَّ أَنْ يَّكُوْنَ فِىْ صَوْمٍ يَصُوْمُهُ أَحَدُكُمْ- ‘তোমরা অন্যান্য রাত্রির তুলনায় জুম‘আর রাত্রিকে সারাক্ষণ জেগে ইবাদতের জন্য এবং অন্যান্য দিবসের তুলনায় জুম‘আর দিবসকে ছিয়ামের জন্য নির্দিষ্ট করে নিয়ো না। অবশ্য যদি কারু (মানত বা) অন্য ছিয়ামের মধ্যে তা এসে পড়ে সে কথা স্বতন্ত্র’।[6]

এক্ষণে যদি কোন রাত্রিকে কোন খাছ ইবাদত অনুষ্ঠান দ্বারা নির্দিষ্ট করা জায়েয হ’ত, তাহ’লে জুম‘আর রাত্রিই তার জন্য সর্বোত্তম হ’ত। কেননা জুম‘আর দিবসই হ’ল অন্যান্য সকল দিবসের তুলনায় শ্রেষ্ঠ- যা বিভিন্ন ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যখন সেই পবিত্র জুম‘আর রাত্রিকেও সারাক্ষণ জেগে থেকে বিশেষভাবে ইবাদতের জন্য খাছ করে নিতে সাবধান করে দিলেন, তখন অন্যান্য রাত্রির অবস্থা সহজেই অনুমেয়। সুতরাং কোন ছহীহ শারঈ প্রমাণ ব্যতীত কোন রাত্রিকে কোন বিশেষ ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করে নেওয়া কখনোই জায়েয হ’তে পারে না।

অতঃপর শবেক্বদরে এবং রামাযানের রাত্রি সমূহে জেগে থেকে কষ্ট করে ইবাদত করা শরী‘আতে অনুমোদিত। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এর জন্য স্বীয় উম্মতকে উৎসাহিত করেছেন এবং নিজে তা করেছেন। যেমন ছহীহ বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেছেন, مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيْمَانًا وَّاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيْمَانًا وَّاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ- ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও ছওয়াবের আশায় রামাযানের রাত্রি জেগে ইবাদতে রত হ’ল, আল্লাহ তার পূর্বের সকল গোনাহ মাফ করে দেন এবং যে ব্যক্তি শবেক্বদরে ঐ একই উদ্দেশ্যে রাত্রি জেগে ইবাদতে রত হ’ল, আল্লাহ তারও পূর্বেকার সকল গোনাহ মাফ করে দেন’।[7] এক্ষণে যদি শবেবরাত, শবে মি‘রাজ ও রজব মাসের প্রথম জুম‘আর রাত্রিকে কোনরূপ ইবাদত বা আচার-অনুষ্ঠান দ্বারা নির্দিষ্ট করা জায়েয হ’ত, তাহ’লে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) নিশ্চয়ই তা উম্মতকে বলে যেতেন অথবা নিজে করতেন। আর সত্যিকার যদি এমন কিছু থাকত, তবে ছাহাবায়ে কেরাম নিশ্চয়ই তা আমাদেরকে বর্ণনা করতেন; কখনোই গোপন করতেন না। কেননা নবীগণের পরে তাঁরাই শ্রেষ্ঠ মানুষ। আল্লাহ তাঁদের উপর সন্তুষ্ট এবং তিনিও তাদেরকে সন্তুষ্ট করেছেন।

অতঃপর হে পাঠক! আপনি কিছুক্ষণ পূর্বেই বিভিন্ন বিদ্বানের আলোচনায় স্পষ্ট দেখতে পেয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) কিংবা তাঁর ছাহাবীগণের নিকট হ’তে রজব মাসের প্রথম জুম‘আর রাত্রির ফযীলত সম্পর্কে অথবা মধ্য শা‘বানের রাত্রির ফযীলত সম্পর্কে কিছুই প্রমাণিত হয়নি। অতএব এটা পরিষ্কার যে, উক্ত দুই রাত্রিতে কোনরূপ অনুষ্ঠান করা এবং ঐ রাত্রিকে কোনরূপ ইবাদতের জন্য খাছ করা ইসলামের মধ্যে একটি নবোদ্ভূত ও নিন্দনীয় বিদ‘আত ছাড়া কিছুই নয়। এমনিভাবে ২৭শে রজবের রাত্রিতেও কোনরূপ খাছ ইবাদত ও আচার-অনুষ্ঠান পালন করা পূর্বে বর্ণিত দলীল সমূহের আলোকে নিঃসন্দেহে নাজায়েয- যে রাত্রিকে লোকেরা ‘শবে মি‘রাজ’ বলে বিশ্বাস করে নিয়েছে। কেননা বিদ্বানগণের নিকট সঠিক কথা এই যে, শবে মি‘রাজের নির্দিষ্ট তারিখ কেউই জানতে পারেননি। অতএব যে ব্যক্তি ওটাকে ২৭শে রজব বলেছেন, সেটা বাতিল কথা। ছহীহ হাদীছ সমূহে যার কোন ভিত্তি নেই। জনৈক কবি কত সুন্দরই না বলেছেন-

وَخَيْرُ الْأُمُوْرِ السَّالِفَاتُ عَلَى الْهُدٰى #   وَشَرُّ الْأُمُوْرِ الْمُحْدَثَاتُ الْبَدَائِعِ

অর্থ : ‘উত্তম আমল হ’ল পূর্ববর্তীদের হেদায়াতসমৃদ্ধ আমল সমূহ। আর নিকৃষ্ট আমল হ’ল ধর্মের নামে নবোদ্ভূত আমল সমূহ’।

আল্লাহর নিকট প্রার্থনা- তিনি যেন সুন্নাতকে কঠিনভাবে ধারণ করার ও তার উপর দৃঢ় থাকার এবং সুন্নাত বিরোধী যাবতীয় কর্ম সম্পর্কে সাবধান থাকার জন্য আমাদেরকে ও সকল মুসলমানকে তাওফীক্ব দান করেন! তিনিই একমাত্র দাতা ও দয়ালু। অতঃপর যাবতীয় দরূদ ও সালাম বর্ষিত হৌক আল্লাহর বান্দা ও রাসূল আমাদের নবী মুহাম্মাদ (ছাঃ) ও তাঁর পরিবারবর্গ ও ছাহাবায়ে কেরামের উপর। আমীন!!

وصلى الله وسلم على عبده ورسوله نبينا محمد وعلي آله وصحبه أجمعين-


[1]. মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/১৪০। 

[2]. মুসলিম হা/১৭১৮, ‘বিচার সমূহ’ অধ্যায়-৩০, অনুচ্ছেদ-৮

[3]. মুত্তাফাক্ব ‘‘আলাইহ, মিশকাত হা/১৪০। 

[4]. ইবনু মাজাহ হা/১৩৮৮, মিশকাত হা/১৩০৮ ‘ছালাত’ অধ্যায়-৪ ‘রামাযান মাসে রাত্রি জাগরণ’ অনুচ্ছেদ-৩৭, (سنده ضعيف جدا أو موضوع قاله الألباني رحـ) । 

[5]. মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/১৪০।  

[6]. মুসলিম হা/২৬৮৪ (১৪৮), ‘ছিয়াম’ অধ্যায়-১৩, অনুচ্ছেদ-২৪; ঐ, মিশকাত হা/২০৫২ ‘ছওম’ অধ্যায়-৭, ‘ঐচ্ছিক ছিয়াম’ অনুচ্ছেদ-৬।   

[7]. মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/১৯৫৮ ‘ছওম’ অধ্যায়-৭।