আহলেহাদীছ আন্দোলন কি চায়, কেন চায় ও কিভাবে চায়


-মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব

আহলেহাদীছ আন্দোলনের পরিচয় :

‘আহলেহাদীছ’ অর্থ পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের নিঃশর্ত অনুসারী। পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের ভিত্তিতে যারা জীবন সমস্যার সমাধান তালাশ করেন, তাদেরকে ‘আহলেহাদীছ’ বলা হয়। আর দুনিয়ার মানুষকে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের মর্মমূলে জমায়েত করার জন্য ছাহাবায়ে কেরামের যুগ থেকে চলে আসা যে নির্ভেজাল ইসলামী আন্দোলনকে ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন’ বলা হয় (‘পরিচিতি’ দ্রষ্টব্য)

প্রচলিত অর্থে আহলেহাদীছ কোন ফের্কা বা মতবাদের নাম নয়, এটি একটি পথের নাম। এ পথ আল্লাহ প্রেরিত সর্বশেষ অহি-র পথ। পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের পথ। এ পথের শেষ ঠিকানা হ’ল জান্নাত। ছাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈনে এযাম এবং সালাফে ছালেহীন সর্বদা এ পথেরই দাওয়াত দিয়ে গেছেন। মানুষের ধর্মীয় ও বৈষয়িক জীবনের যাবতীয় হেদায়াত এ পথেই মওজুদ রয়েছে। আহলেহাদীছের সর্বাপেক্ষা বড় নিদর্শন হ’ল এই যে, তারা হলেন আক্বীদার ক্ষেত্রে শিরকের বিরুদ্ধে আপোষহীনভাবে তাওহীদবাদী এবং আমলের ক্ষেত্রে বিদ‘আতের বিরুদ্ধে আপোষহীনভাবে সুন্নাতপন্থী।   

১. আহলেহাদীছ আন্দোলনের উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ :

মুসলমানদের মধ্যে যখন থেকে বিদ‘আতের সূচনা হয়েছে, তখন থেকেই তার বিপরীতে আহলেহাদীছ আন্দোলনের উৎপত্তি হয়েছে। তৃতীয় খলীফা হযরত ওছমান (রাঃ)-এর খেলাফতের (২৩-৩৫ খৃঃ) শেষদিকে জনৈকা নিগ্রো মাতার গর্ভজাত ইহুদী সন্তান আব্দুল্লাহ বিন সাবা-র মাধ্যমে যে রাজনৈতিক বিভক্তির সূচনা হয়, তার সূত্র ধরে পরবর্তী খলীফা আলী (রাঃ)-এর সময়ে ৩৭ হিজরী থেকে শী‘আ ও খারেজী দলের উদ্ভব হয় এবং বিদ‘আতের সূচনা হয়। পরবর্তীতে অন্যান্য বিদ‘আত সমূহের প্রচলন হয়। তারা সবাই স্ব স্ব মাযহাবের পক্ষে কুরআন ও হাদীছের অপব্যাখ্যা করতে থাকে। তখন ছাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈনে এযাম এইসব বিদ‘আতের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান এবং বিদ‘আতীদের বিপরীতে নিজেদেরকে আহলুস সুন্নাহ ও আহলুল হাদীছ নামে অভিহিত করেন (সূত্র : কি ও কেন পৃঃ ৩১, ৩৩)। অতএব ছাহাবায়ে কেরামই হলেন জামা‘আতে আহলেহাদীছের প্রথম দল। তাঁদের মাধ্যমে আহলেহাদীছ আন্দোলনের উৎপত্তি হয়।

ক্রমবিকাশ : বিদ‘আতীদের প্রতিরোধ আন্দোলনের সাথে সাথে আহলেহাদীছ আন্দোলনের ক্রমবিকাশ সাধিত হতে থাকে। আহলেহাদীছ আন্দোলন তার সূচনা থেকেই প্রচারমূলক ও প্রতিরোধ মূলক দু’পদ্ধতিতে এগিয়ে চলেছে। ক্রমবিকাশের এই গতিধারা বা ইতিহাসকে মোটামুটি ছয়টি ভাগে ভাগ করা যায়।

(১) স্বর্ণযুগ : যা অব্যাহত ছিল ৩৭ হিজরী পর্যন্ত। যে সময়ে মানুষ জীবন পরিচালনার জন্য পবিত্র কুরআন ও হাদীছকেই একমাত্র নির্দেশিকা হিসাবে গ্রহণ করেছিল।

(২) বিদ‘আতীদের উত্থান যুগ : ৩৭ হিজরী থেকে শুরু হয়ে মোটামুটি ১০০ হিজরী পর্যন্ত। এ সময় মুসলমানদের মধ্যে রাজনৈতিক ও উছূলী বিতর্ক ব্যাপকভাবে দানা বেঁধে উঠে। উত্থান ঘটে চরমপন্থী শী‘আ, খারেজীসহ নানা দল ও উপদলের। ছাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈনে এযাম এসব ভ্রান্ত মতবাদ ও বিদ‘আতী আক্বীদা-বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ব্যাপক দাওয়াতী প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এই যুগে বিদ‘আতী দলগুলোর বিপরীতে আহলেহাদীছগণের নামীয় ও দলীয় স্বাতন্ত্র্য ফুটে উঠে।

(৩) সংকট ও সংস্কার যুগ (১০০-১৯৮ হিঃ) : এই যুগে আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলী সম্পর্কে প্রধানতঃ চারজন বিদ্বানের মাধ্যমে জাহমিয়া, মু‘তাযিলা, মুশাবিবহা প্রভৃতি ভ্রান্ত দলের উদ্ভব ঘটে। যদিও আহলেহাদীছ ওলামায়ে কেরামের দাওয়াতী তৎপরতা এবং উমাইয়াদের প্রশাসনিক কঠোরতার কারণে এদের ফিৎনা খুব বিকাশ লাভ করেনি।

(৪) সুন্নাত দলনের যুগ (১৯৮-২৩২ হিঃ) : ১৫০ হিজরীর পরে গ্রীক দর্শন সঞ্জাত যুক্তিবাদের প্ররোচনায় একদল কালাম শাস্ত্রবিদের আর্বিভাব ঘটে। এইসব মুতাকাল্লিমীন ও মু‘তাযিলাদের কুটতর্কে ইসলামের সহজ-সরল হাদীছ ভিত্তিক জীবন পরিচালনায় ব্যত্যয় ঘটে। ফলে বহু মুসলমান আক্বীদাগত বিভ্রান্তিতে পতিত হন। আববাসীয় খলীফাদের কেউ কেউ মু‘তাযিলা মতবাদ গ্রহণ করায় এবং এ মতবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করায় আহলেহাদীছ বিদ্বানগণের উপর নেমে আসে মহা পরীক্ষা। যার মর্মান্তিক শিকার হতে হয় আহলেহাদীছগণের নেতা ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলকে (১৬৪-২৪১ হিঃ)। তবুও সকল প্রকার নির্যাতন সহ্য করে হাদীছপন্থী বিদ্বানগণ ছাহাবা যুগের আক্বীদা ও আমল অক্ষুণ্ণ রাখার চেষ্টায় ব্রতী থাকেন।

(৫) সংকট পরবর্তী যুগ (২৩২-৪র্থ শতাব্দী হিজরী) : এই যুগের প্রথমার্ধ ছিল আহলেহাদীছ আন্দোলনের রেনেসাঁ যুগ। এ সময় মু‘তাযিলাগণ রাজনৈতিক ক্ষমতা হারায় এবং হাদীছ সংকলনের স্বর্ণ যুগ শুরু হয়। ৩য় শতাব্দী হিজরী ‘হাদীছ সংগ্রহ ও সংকলনের স্বর্ণযুগ’ হিসাবে অভিহিত হয়। কুতুবে সিত্তাহ এ যুগেই সংকলিত হয়। অসংখ্য আহলেহাদীছ বিদ্বান এ যুগে হাদীছ সংকলনের কাজে লিপ্ত হন এবং তাদের মূল্যবান লেখনী পরিচালনা করেন।

(৬) তাক্বলীদী যুগ (৪র্থ শতাব্দী হিজরী-পরবর্তী যুগ) : এই সময় মুতাযিলাগণ রাজনৈতিক ক্ষমতা হারালেও উছূলী বিতর্ক শেষ হয়নি। কুরআন ও হাদীছের বাহ্যিক অর্থের অনুসরণ এবং ছাহাবায়ে কেরামের অনুসৃত পথ ছেড়ে বিদ্বানগণ স্ব স্ব লৌকিক জ্ঞানের মাধ্যমে সবকিছুর সমাধান তালাশ করতে শুরু করেন। ফলে কালাম ও দর্শন শাস্ত্রের কুটতর্ক, বিভিন্ন মুজতাহিদ ইমামের ফিক্বহী মতপার্থক্য, ছূফীবাদের প্রসার ইত্যাদি কারণে মুসলমানদের সামাজিক ঐক্য ছিন্ন ভিন্ন হয়ে যায়। যা অবধারিতভাবে মানুষকে মাযহাবী বাড়াবাড়িতে নিক্ষেপ করে। ফলে ৪র্থ শতাব্দী হিজরীর পর থেকে মুসলমানরা নিজেদেরকে বিভিন্ন মাযহাবী নামে পরিচিত করতে শুরু করে। মাযহাবী তাক্বলীদের এই নিদারুণ বাড়াবাড়ি অবশেষে ৬৫৬ হিজরীতে আববাসীয় খেলাফত ধ্বংসের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ৬৬৫ হিজরী থেকে ইসলামী জগতের সর্বত্র চার মাযহাবের লোকদের জন্য পৃথক পৃথক ক্বাযী নিযুক্ত হয়। ৮০১ হিজরীতে মুসলিম ঐক্যের প্রাণকেন্দ্র কা‘বা গৃহের চার পার্শ্বে চার মাযহাবের জন্য চারটি পৃথক মুছাল্লা কায়েম করা হয়। ১৩৪৩ হিজরীতে সঊদী বাদশাহ আব্দুল আযীয উক্ত বিদ‘আত উৎখাত করেন। যা আজও অব্যাহত আছে। ফালিল্লাহিল হাম্দ (থিসিস ৮৩-৮৯ পৃঃ)

বর্তমানে আমরা তাক্বলীদী যুগে বাস করছি। আহলেহাদীছ আন্দোলন পূর্বের ন্যায় আজও প্রচার ও প্রতিরোধ দু’ভাবে এগিয়ে চলেছে। শত নির্যাতন ও জেল-যুলুম সহ্য করেও এ আন্দোলন আজ বিশ্বের সর্বত্র সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়েছে। সত্য-সন্ধানী মানুষ ক্রমেই  এ আন্দোলনের প্রতি এগিয়ে আসছে। আলহামদুলিল্লাহ

২. আহলেহাদীছ আন্দোলন ও অন্যান্য সংগঠনের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য :

আহলেহাদীছ ও অন্যান্য সংগঠনের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য হল দু’ধরনের : (১) আদর্শগত ও (২) কর্মগত। আদর্শগত পার্থক্য বলতে ইত্তেবা ও তাক্বলীদকে বুঝায়। আমরা ইত্তেবায় বিশ্বাসী এবং অন্যেরা তাক্বলীদে বিশ্বাসী। কর্মগত পার্থক্য বলতে সমাজ পরিবর্তন ও সরকার পরিবর্তন বুঝায়। আমরা সমাজ পরিবর্তনকে অগ্রাধিকার দেই। সেজন্য নেতৃত্ব সংস্কার, শিক্ষা সংস্কার ও অর্থনৈতিক সংস্কারকে আমরা সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচী হিসাবে গ্রহণ করি। সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের জন্য আমরা অতন্দ্র প্রহরীর ন্যায় কাজ করি এবং সর্বদা সরকারকে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে পথ প্রদর্শন করে থাকি। সাথে সাথে সাংগঠনিক মযবুতির মাধ্যমে আমরা সরকারের নিকট থেকে অধিকার আদায়ের জন্য নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় প্রচেষ্টা চালিয়ে থাকি।

সরকার কুরআন ও সুন্নাহ বিরোধী কোন পদক্ষেপ নিলে আমরা সকল প্রকার বৈধ পন্থায় তার প্রতিবাদ করি। আমরা আমাদের কর্মীদের রাজনীতি সচেতন করে গড়ে তুলি এবং দেশ যাতে কোন আগ্রাসী শক্তির অধীনস্থ না হয়, সেজন্য জনমত গড়ে তুলি। কিন্তু ‘সরকার হটাও’ আন্দোলনের নামে সর্বদা মিছিল-মিটিং-হরতাল, গাড়ী ভাংচুর ও হিংসা-হানাহানির মাধ্যমে সমাজে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করাকে আমরা অন্যায় মনে করি।

অন্যেরা সরকার পরিবর্তনকে তাদের এক নম্বর টার্গেট হিসাবে গ্রহণ করেছে। আমরা সমাজ পরিবর্তনকে আমাদের প্রথম লক্ষ্য হিসাবে গ্রহণ করেছি। প্রকৃত প্রস্তাবে এটিই হ’ল নবীগণের তরীকা। এর বাইরে গেলে শয়তানী খপ্পরে পড়ে ঈমান ও মনুষ্যত্ব হারাতে হবে। যা আজকাল রাজনীতিক নামধারী লোকদের মধ্যে সর্বদা দেখা যাচ্ছে। সেক্যুলার সংগঠনের মূল লক্ষ্য হ’ল দুনিয়া হাছিল করা। পক্ষান্তরে ইসলামী সংগঠনের মূল লক্ষ্য হ’ল আখেরাতে মুক্তি পাওয়া। অন্যান্য ইসলামী সংগঠন এদেশে তিন ভাগে বিভক্ত। (১) যারা স্রেফ তাবলীগের কাজ করে। অথচ সংস্কারের চিন্তামুক্ত। এরা সাধারণ মুসলমানদের আক্বীদা ও আমল সবচেয়ে বেশী নষ্ট করছে (২) সর্বদা সরকারের লেজুড় ইসলামী সংগঠন। যারা সরকারের সকল কাজের পক্ষে ইসলামী লেবেল মেরে সাফাই গেয়ে থাকে। (৩) দেশী ও বিদেশী শক্তি বলয়ের সাথে অাঁতাত করে যেকোন মূল্যে সরকারী ক্ষমতা দখলের স্বপ্নে বিভোর ইসলামী রাজনৈতিক দল সমূহ। প্রথমোক্ত দলটির ন্যায় এরাও ইসলামের মারাত্মক ক্ষতিকর দল। এদের ‘এটাও ঠিক ওটাও ঠিক’ আন্দোলনের ফলে মানুষ হক ও বাতিলের পার্থক্য করতে পারে না। মূলতঃ এরা ইসলামের দাবীদার হলেও এদের লক্ষ্য হ’ল দুনিয়া। এসবের বিপরীতে একমাত্র ইসলামী সংগঠন হ’ল ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’। যারা ইসলামের স্বচ্ছতা পুনরুদ্ধার ও তা অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য জানবাজি রেখে আন্দোলন করে থাকে। এটাই তাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।

তাক্বলীদে শাখছী বা অন্ধ ব্যক্তিপূজা :

তাক্বলীদ অর্থ শারঈ বিষয়ে বিনা দলীলে কারো কোন কথা চোখ বুঁজে মেনে নেওয়া। তাক্বলীদ দু’প্রকারের : জাতীয় ও বিজাতীয়। জাতীয় তাক্বলীদ বলতে ধর্মের নামে মুসলিম সমাজে প্রচলিত বিভিন্ন মাযহাব ও তরীক্বার অন্ধ অনুসরণ বুঝায়। বিজাতীয় তাক্বলীদ বলতে বৈষয়িক ব্যাপারের নামে সমাজে প্রচলিত পুঁজিবাদ, সমাজবাদ, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ প্রভৃতি বিজাতীয় মতবাদের অন্ধ অনুসরণ বুঝায়। 

অন্যান্য ইসলামী সংগঠন তাক্বলীদের অনুসরণে এবং অধিকাংশ জনগণের আচরিত মাযহাব অনুযায়ী ব্যক্তি ও বৈষয়িক জীবনে ইসলামী আইন ও শাসন চান। এঁরা বাহ্যিকভাবে বিশেষ একজন সম্মানিত ইমামের তাক্বলীদের দাবীদার হ’লেও বাস্তবে পরবর্তী ফক্বীহদের রচিত বিভিন্ন ফিক্বহ এবং পীর-মাশায়েখ, মুরববী ও ইসলামী  চিন্তাবিদ নামে পরিচিত বিভিন্ন ব্যক্তির অনুসারী। আর আহলেহাদীছ আন্দোলন তাক্বলীদমুক্তভাবে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহ অনুযায়ী নিজেদের ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবন এবং দেশের আইন ও শাসন ব্যবস্থা কামনা করেন।

এ দেশে বর্তমানে মূলতঃ দু’ধরনের আন্দোলন চলছে। ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ ও ‘ইসলামী’। প্রত্যেকটিই দু’ভাগে বিভক্ত। প্রথমতঃ ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলির একভাগ ব্যক্তি জীবনে আস্তিক বা ধর্মভীরু, কিন্তু বৈষয়িক জীবনে নাস্তিক বা ধর্মহীন। ব্যক্তি জীবনে ধর্মের অনুসারী হ’লেও তারা বৈষয়িক জীবনে ধর্মহীন বিজাতীয় মতাদর্শের অন্ধ অনুসরণ করে থাকেন। কারণ তাদের মতে ধর্ম ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও কিছু ইবাদত অনুষ্ঠানের নাম। বৈষয়িক জীবনে এর কোন প্রবেশাধিকার নেই। এইভাগে লোকের সংখ্যাই সর্বত্র বেশী। ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলির অন্য ভাগটি ব্যক্তি ও বৈষয়িক উভয় জীবনে ‘নাস্তিক’ অর্থাৎ উভয় জীবনে তারা ধর্মহীন বিজাতীয় মতাদর্শের অনুসারী। দ্বিতীয় ভাগে রয়েছে ইসলামী দলগুলি। এরা মূলতঃ দু’ভাগে বিভক্ত। একভাগের দলগুলি তাক্বলীদের অনুসরণে ব্যক্তি ও বৈষয়িক জীবনে ইসলামী আইন ও শাসন চান। যা বাস্তবে শিরক ও বিদ‘আতের জগাখিচুড়ী ব্যতীত কিছুই নয়। আর এক ভাগে রয়েছেন তাঁরাই যারা তাক্বলীদমুক্তভাবে কুরআন ও ছহীহ সুন্নাহ অনুযায়ী নিজেদের ধর্মীয় ও বৈষয়িক জীবন এবং দেশের আইন ও শাসন ব্যবস্থা কামনা করেন (‘উদাত্ত আহবান’ বই)। ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ বর্তমানে যার নেতৃত্ব দিচ্ছে।

৩. আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ কী চায়, কেন চায়, কীভাবে চায় :

আহলেহাদীছ আন্দোলন কি চায় : ধর্মীয় ও বৈষয়িক উভয় ক্ষেত্রে জাতীয় ও বিজাতীয় উভয় প্রকার তাক্বলীদ হ’তে মুক্ত থেকে নিরপেক্ষভাবে পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছ অনুযায়ী সার্বিক জীবন পরিচালনা করতে চায়।

কেন চায় : নিজেদের রচিত অসংখ্য মাযহাব-মতবাদ, ইযম ও তরীকার বেড়াজালে আবেষ্টিত মানব সমাজকে আল্লাহ প্রদত্ত ও রাসূল (ছাঃ) প্রদর্শিত অভ্রান্ত সত্যের পথে পরিচালনা করার জন্যই এ আন্দোলন তার কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে চায়।

কি ভাবে চায় : ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ সমাজ সংস্কারের মাধ্যমে এদেশের সার্বিক সংস্কার কামনা করে। তারা এদেশে যে কর্মপন্থা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চায় তা হল- তাবলীগ, তানযীম, তারবিয়াত ও তাজদীদে মিল্লাত, অর্থাৎ প্রচার, সংগঠন, প্রশিক্ষণ ও সমাজসংস্কার। সমাজ বিপ্লবের এ সকল কর্মসূচী বাস্তবায়নের মাধ্যমে ‘আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ’ এ দেশের বুকে দ্বীনের বিজয় দেখতে চায়। আল্লাহ রাববুল আলামীনের রহমতকে সম্বল করে নিরলসভাবে মানুষের কাছে নির্ভেজাল তাওহীদের দাওয়াতকে পৌঁছে দেওয়া এবং যাবতীয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম করাকে আমরা আমাদের ঈমানী দায়িত্ব বলে মনে করি। দুনিয়াবী বিজয় অর্জন আমাদের মৌলিক লক্ষ্য নয়। বরং আমাদের সকল তৎপরতার উদ্দেশ্য আখেরাতে মুক্তি লাভ করা। এ দেশের জনগণের প্রতি আমাদের আহবান- আসুন! পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে জীবন গড়ি! সরকারের প্রতি আমাদের আহবান- ‘সকল বিধান বাতিল কর, অহি-র বিধান কায়েম কর’। এ পথ ধরেই আমাদের সমবেত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সমাজের বুকে একদিন সামগ্রিক পরিবর্তন সূচিত হবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ আমাদের সহায় হৌন। আমীন!!

৪. ঐক্য দর্শন

(১) মানবীয় ঐক্যের দর্শন হ’ল মানুষ হিসাবে সকল মানুষের প্রতি বিনয় ও সহনশীলতা প্রদর্শন করা ও সমভাবে মানবিক আচরণ করা।

(২) সামাজিক ঐক্যের দর্শন হ’ল, সর্বাবস্থায় হাবলুল্লাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া। উক্ত লক্ষ্যে নির্দিষ্ট ইমারতের অধীনে জামা‘আতবদ্ধ জীবন যাপন করা এবং সমাজ সংস্কারে ব্রতী হওয়া। হক ও বাতিলের মিশ্রণে যেমন কোন ঐক্য হয় না, তেমনি যিদ ও হঠকারিতা বজায় রেখে ইসলামী ঐক্য সম্ভব নয় (সূত্র : সম্পাদকীয়, ডিসেম্বর’০৯ ও ’১০; ইনসানে কামেল পৃঃ ২৩-২৬)

৫. আহলেহাদীছ আন্দোলনের অগ্রগতিতে কর্মীদের ত্যাগের প্রয়োজনীয়তা :

আহলেহাদীছ আন্দোলনের কর্মী হওয়ার অর্থ এমন একটি আন্দোলনের কর্মী হওয়া যে আন্দোলন মানবজীবনের প্রতিটি দিক ও বিভাগে ইসলামের পূর্ণাঙ্গ প্রতিষ্ঠা কামনা করে। তাই এ আন্দোলনের কর্মী হওয়া একদিকে যেমন এক মহা ভাগ্যের ব্যাপার, অন্যদিকে তেমনি অতীব গুরুত্বপূর্ণও বটে। কেননা সত্যিকার অর্থে মানুষের ব্যক্তি ও সমাজজীবনকে হক্বের পথে ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন ও দায়িত্বপূর্ণ কাজ। তাই এ আন্দোলনের কর্মীকে সবসময় মনে রাখতে হবে যে, আমি সেই দায়িত্ব পালনে রত আছি, যে দায়িত্ব পালনের কথা আল্লাহ সূরা ছফের ৯ নং আয়াতে বলেছেন- هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ ‘তিনি তার রাসূলকে প্রেরণ করেছেন হেদায়াত ও সত্য দ্বীন সহকারে যাতে তিনি সকল দ্বীনের উপর তাকে বিজয়ী করতে পারেন; যদিও মুশরিকরা তা অপসন্দ করে’। অর্থাৎ সমাজের যাবতীয় বাতিল মত ও পথের উপর আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করার জন্য আল্লাহ মুসলিম জাতিকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আর এটা গর্বের ব্যাপার এই কারণে যে, এই মহা গুরু দায়িত্ব পালনের জন্য আল্লাহ আপনাকে মনোনীত করেছেন। লক্ষ্য করুন, এক অর্থে কর্মীদের নিরলস কর্মতৎপরতার উপর নির্ভর করছে পথভোলা মানুষের জান্নাত ও জাহান্নাম। সমাজের বুকে মানুষ যখন উদ্দেশ্যহীন, উদ্ভ্রান্তের মত দিশাহারা হয়ে দুনিয়ার পিছনে ছুটছে, তখন মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর পক্ষ থেকে মুক্তির দিশারী, অহীর ঝান্ডাবাহী হিসাবে আপনার ভূমিকা যে কত গুরুত্বপূর্ণ তা সহজেই অনুমেয়। তাই এ আন্দোলনের কর্মীকে ত্যাগের সবচেয়ে বড় নজরানা পেশ করার জন্য সর্বদা প্রস্ত্তত থাকতে হবে।

একটি আদর্শিক সংগঠনের কর্মীর অবশ্য কর্তব্য হবে-

(১) নিজেকে ‘উসওয়ায়ে হাসানাহ’ হিসাবে গড়ে তোলা : এজন্য (ক) নিজের ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবনকে সর্বপ্রথম অহীর আলোকে গড়ে তুলতে হবে। যে আদর্শ দিয়ে আমরা সমাজকে পরিবর্তন করতে চাই, সে আদর্শ আগে নিজের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে। যাতে আপনার পরিবার, সমাজ ও সহকর্মীরা আপনার মাঝে প্রকৃত মানুষ ও প্রকৃত মুসলিমের মডেল খুঁজে পায়। প্রতিটি পদক্ষেপ, প্রতিটি আচরণ যেন ইসলামের পথে মানুষকে আগ্রহী করে তোলে সে প্রচেষ্টায় নিজেকে সর্বদা নিরত রাখুন। আর সবকিছুর ঊর্ধ্বে (খ) প্রতিটি কাজ ইখলাছের সাথে তথা কেবলমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যেই করতে সচেষ্ট হৌন। হাফেয ইবনুল ক্বাইয়িম (রহঃ) বলেন, ইখলাছবিহীন কর্ম হ’ল ঐ পথিকের মত, যে তার পানির পাত্রে বালু ভর্তি করে। সে তা বহন করে ঠিকই, কিন্তু তা থেকে কোন উপকার পায় না’। শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেন, أقيموا دولة الإسلام في قلوبكم تقم لكم علي أرضكم ‘তোমরা তোমাদের হৃদয়ে ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম কর, তাহ’লে পৃথিবীর বুকে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হবে’।

(২) সমাজকে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করা : মানুষকে হক্বের দাওয়াত প্রদানের পূর্বে অবশ্যই নিজে সে বিষয়ে জ্ঞানার্জন করতে হবে। কুরআন-হাদীছ গভীরভাবে অধ্যয়ন করতে হবে। ইসলামী বই-পত্র পড়াশোনা করতে হবে । দেশ ও জাতি সম্পর্কে খোঁজ-খবর করতে হবে । নিজে দাওয়াতের বিষয়ে সুস্পষ্ট জ্ঞান লাভের পর অন্যকে জানানোর প্রস্ত্ততি নিতে হবে। একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মীর জন্য জ্ঞানের মত কার্যকর অস্ত্র আর নেই। এজন্য তাকে অবশ্যই প্রয়োজনীয় জ্ঞানে সুশোভিত হতে হবে।  

(৩) নিজেকে কর্মতৎপর করে তোলা :  প্রত্যেকেই আমরা সমান জ্ঞান ও সামর্থ নিয়ে জন্মগ্রহণ করিনি; তবুও নিজের যতটুকু সামর্থ্য রয়েছে তার সবটুকু কাজে লাগিয়ে সমাজ বিপ্লবের ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ুন। কোন কাজ শুরু করতে গিয়ে নিজেকে দুর্বল ভাববেন না। ইনশাআল্লাহ আপনার ইখলাছপূর্ণ আমলের বিনিময়ে আল্লাহ আপনাকে সফলতা দান করবেনই। আল্লাহ বলেন, أَنِّي لاَ أُضِيعُ عَمَلَ عَامِلٍ مِنْكُمْ مِنْ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى ‘আমি তোমাদের কোন আমলকারীর আমলকে বিনষ্ট করি না’ (আলে ইমরান ১৯৫)। যারা আল্লাহর রাস্তায় নিজেকে দৃঢ়ভাবে ধরে রাখে, তাদের উদ্দেশ্যে আল্লাহ বলেন, أُولَئِكَ يُجْزَوْنَ الْغُرْفَةَ بِمَا صَبَرُوا وَيُلَقَّوْنَ فِيهَا تَحِيَّةً وَسَلاَمًا ‘তাদেরকে ধৈর্যের প্রতিদান স্বরূপ দেওয়া হবে জান্নাতে বালাখানা এবং তারা সেখানে প্রাপ্ত হবে অভিবাদন ও সালাম’ (আল-ফুরক্বান ৭৫)

(৪) সকল বাধা-বিপত্তিকে ঈমানী শক্তি দিয়ে সাহসিকতার সাথে মোকাবিলা করা : দাওয়াতের ময়দানে নিজেকে ধৈর্যশীল, আত্মবিশ্বাসীভাবে উপস্থাপন করুন। সমাজের ভয়ে, কারু চোখ রাঙানীতে ভীত হয়ে কোন অন্যায়-অনাচারকে প্রশ্রয় দেবেন না। মনে রাখবেন, ভয়কে জয় করার মধ্যেই সমাজ বিপ্লবে সফলতার বীজ লুকিয়ে আছে। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন,  مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَراً فَلْيُنْكِرْهُ بِيَدِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ وَذَاكَ أَضْعَفُ الإِيمَانِ ‘তোমাদের মধ্যে কেউ ‘মুনকার’ কিছু দেখলে তা হাত দিয়ে প্রতিরোধ করবে। না পারলে যবান দিয়ে। না পারলে অমত্মর দিয়ে। আর এটাই হ’ল দুর্বলতম ঈমান’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৫১৩৭, ‘শিষ্টাচার’ অধ্যায়)। আপনার মনে নিদেনপক্ষে যদি অন্যায়ের প্রতি ঘৃণাও না থাকে তবে আপনি নিশ্চিতভাবে সমাজ বিপ্লবের উপযুক্ত কর্মী নন। পথের সীমানায় যে মোড়টি দেখা যায় সেটিই পথের শেষ নয়, তারপরেও পথ রয়েছে, যদি না আপনি সেই মোড়টি ঘুরতে ব্যর্থ হন। অতএব কোথাও মোড় দেখলেই সেটাকে পথের শেষ মনে করা যাবে না। বরং আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করে সাহসের সাথে সেই মোড় অতিক্রম করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এটাই হল ঈমানের শিক্ষা। আক্বাবার দ্বিতীয় শপথের শেষ পর্যায়ে সে দৃশ্যই আমরা দেখতে পাই- وعن عبادة بن الصامت قال بَايَعْنَا رَسُولَ اللَّهِ -صلى الله عليه وسلم- عَلَى السَّمْعِ وَالطَّاعَةِ فِى الْعُسْرِ وَالْيُسْرِ وَالْمَنْشَطِ وَالْمَكْرَهِ وَعَلَى أَثَرَةٍ عَلَيْنَا وَعَلَى أَنْ لاَ نُنَازِعَ الأَمْرَ أَهْلَهُ  وَعَلَى أَنْ نَقُولَ بِالْحَقِّ أَيْنَمَا كُنَّا لاَ نَخَافُ فِى اللَّهِ لَوْمَةَ لاَئِمٍ، وفي رواية-"وعلي َأَنْ لاَ نُنَازِعَ الأَمْرَ أَهْلَهُ إِلاَّ أَنْ تَرَوْا كُفْرًا بَوَاحًا عِنْدَكُمْ مِنَ اللَّهِ فِيهِ بُرْهَانٌ ‘আমরা রাসূল (ছাঃ)-এর নিকট বায়‘আত করলাম কষ্টে-সুখে, আনন্দে-বিষাদে এবং আমাদের উপরে অন্যকে প্রাধান্য দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর নির্দেশ শ্রবণ ও আনুগত্যের উপর এবং এ বিষয়ের উপর যে, আমরা সর্বদা হক্ব কথা বলব যেখানেই থাকিনা কেন। আর আল্লাহর জন্য কোন নিন্দুকের নিন্দাবাদকে আমরা ভয় করব না’। অন্য বর্ণনায় এসেছে ‘এবং নেতৃত্ব নিয়ে ঝগড়া করবে না, যতক্ষণ না তোমরা প্রকাশ্যে কুফরী দেখবে, যে বিষয়ে তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে দলীল থাকবে’ (মুত্তাফাক আলাইহ, মিশকাত হা/৩৬৬৬, ‘নেতৃত্ব ও বিচার’ অধ্যায়)

আল্লাহ রাববুল আলামীন আমাদের সকলকে অহী ভিত্তিক সমাজ বিপ্লবের বিস্তীর্ণ ময়দানে একজন যোগ্য মুজাহিদ হিসাবে কবুল করে নিন। আমীন।

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, تَعِسَ عَبْدُ الدِّينَارِ وَعَبْدُ الدِّرْهَمِ وَعَبْدُ الْخَمِيصَةِ ، إِنْ أُعْطِىَ رَضِىَ ، وَإِنْ لَمْ يُعْطَ سَخِطَ ، تَعِسَ وَانْتَكَسَ ، وَإِذَا شِيكَ فَلاَ انْتَقَشَ ، طُوبَى لِعَبْدٍ آخِذٍ بِعِنَانِ فَرَسِهِ فِى سَبِيلِ اللَّهِ ، أَشْعَثَ رَأْسُهُ مُغْبَرَّةٍ قَدَمَاهُ ، إِنْ كَانَ فِى الْحِرَاسَةِ كَانَ فِى الْحِرَاسَةِ ، وَإِنْ كَانَ فِى السَّاقَةِ كَانَ فِى السَّاقَةِ ، إِنِ اسْتَأْذَنَ لَمْ يُؤْذَنْ لَهُ ، وَإِنْ شَفَعَ لَمْ يُشَفَّعْ ‘দীনার, দিরহাম ও উত্তম পোষাকের গোলামেরা ধ্বংস হৌক! যদি তাকে দেওয়া হয় তাহলে সে সন্তুষ্ট হয়; আর না দেওয়া হলে অসন্তুষ্ট হয়। সে ধ্বংস হৌক! অধঃপতিত হৌক!! যদি তার পায়ে কাঁটা বিঁধে, তবে তা বের করে দেওয়ার মত কেউ না হৌক!!!  জান্নাতের সুসংবাদ ঐ বান্দার জন্য, যে ঘোড়ার লাগাম ধরে আল্লাহর পথে সর্বদা প্রস্ত্তত থাকে। তার কেশ বিক্ষিপ্ত ও পদযুগল ধূলিমিশ্রিত। তাকে পাহারার কাজ দিলে পাহারার কাজে থাকে এবং পশ্চাতে নিয়োজিত করলে পশ্চাতে থাকে। অনুমতি চাইলে দেওয়া হয় না। সুফারিশ করলে তা কবুল করা হয় না’। (বুখারী, মিশকাত হা/৫১৬২ ‘রিক্বাক্ব’ অধ্যায়)।

অর্থাৎ যে কর্মী একনিষ্ঠভাবে একাগ্রচিত্তে আল্লাহর রাস্তায় সংগ্রাম করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি ব্যতীত অন্য কিছু্ কামনা করে না। মাল-সম্পদ কোন কিছুর তোয়াক্কা করে না, সেই ত্যাগী কর্মীর জন্য জান্নাতের সুসংবাদ। আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর দ্বীনের সত্যিকারের ত্যাগী কর্মী হিসাবে কবুল করুন- আমীন!